বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ এবং মণিপুরি নৃত্য

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, শান্তিনিকেতন এবং মণিপুরি নৃত্য

পাচমিশালী প্রবন্ধ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, শান্তিনিকেতন এবং মণিপুরি নৃত্য

– ড. রণজিত সিংহ

বাকি আমি রাখব না রাখব না কিছুই
তোমার চলার পথে পথে ছেয়ে দেব ভুঁই।
ওগো মোহন, তোমার উত্তরীয় গন্ধে আমার ভরে নিয়ো,
উজাড় করে দেব পায়ে বকুল বেলা জুঁই।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আনন্দের আতিশয্যে যে গানটি রচনা করেছিলেন যা মণিপুরি নৃত্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্বের অতি অল্প সংখ্যক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বই মণিপুরি নৃত্য সম্বন্ধে উচ্ছ্বসিত অভিলাষ পোষণ করতেন যতদিন না নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিপুরি নৃত্যের মাধুর্যকে উপলব্ধি করে এটাকে পরিশীলনের সুযোগ করে দিয়ে বিশ্বসভায় পরিচিত করে দিয়েছিলেন।

১৯১৯ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীহট্ট ভ্রমণে এসেছিলেন। তৎকালীন সিলেটের সর্বস্তরের জনগণ ও রবীন্দ্রভক্তরা তাঁকে সিলেট ভ্রমণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এত গুণগ্রাহী সেখানে আছেন, সেখানে যাওয়া কষ্টসাধ্য ও অগম্য রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা জেনেও কবি সম্মত হয়েছিলেন। ১৩২৬ বঙ্গাব্দের ১৯ কার্তিক বুধবার কবি খুব ভোরে সিলেটে শুভ পদার্পণ করেন। সাতটায় কবি সিলেটের ব্রহ্মমন্দিরে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে উপাসনা করলেন। পরদিন সকাল ১০টায় টাউন হলে কবিকে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কবি প্রত্যুত্তরে বল্লেন, ‘যে অর্ঘ্য অনেক লোকের দান একজনের পক্ষে তা বহন করা দুষ্কর, তেমনি তা প্রত্যাখ্যান করাও দুঃসাধ্য।’ ‘বাঙালির সাধনা’ নামে ভাষণটি পরবর্তীতে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। শ্রীহট্ট মহিলা সমিতিতে কবিকে অভিনন্দন জানায় ব্রাহ্মসমাজগৃহে।

মণিপুরি নৃত্যের সাথে রবীন্দ্রনাথের যেভাবে পরিচয় হলো

২০ কার্তিক, বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে সিলেটের নিকটবর্তী ‘মাছিমপুর’ নামে মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া গ্রামে তিনি মণিপুরি নৃত্য ও বয়নশিল্প দেখতে যান। কবির আগমনে মণিপুরিরা রাস্তার পাশে সারি সারি কলাগাছ পুঁতে অতি সুন্দর তোরণ তৈরি করে। মঙ্গলঘট ও আমপাতার শোভনসজ্জা করা হয়। গ্রামের মণিপুরি সমাজ গুরুদেবকে অভ্যর্থনা জানায় ছেলেদের রাখাল নৃত্যের অনুষ্ঠানে। কবি সমস্ত দিন ব্যস্ত থাকায় ক্লান্ত বোধ করেন। বিকেলে টাউন হলে ভাষণ দেবার কথা। রাতে মণিপুরি শিল্পীরা কবিকে বিখ্যাত মণিপুরি রাসনৃত্য প্রদর্শন করে। গুরুদেব সেই মণিপুরি নৃত্যের শিল্পরূপ দেখে মুগ্ধ হন। স্থির করলেন শান্তিনিকেতনে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মণিপুরি নৃত্য বিভাগ খুলবেন। চেষ্টা করলেন তখনি একজন শিক্ষককে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যেতে। কিন্তু তখনি দেশ ছেড়ে কোন মণিপুরি শিক্ষক কলকাতা যেতে সম্মত হননি।
এর আগেও বাংলা ১৩০৬ সনে মহারাজ রাধাকিশোর মাণিক্যের আমন্ত্রণে কবিকে আগরতলায় আহ্বান করা হয়। কবিসংবর্ধনার আয়োজন হয়েছিল কুঞ্জবনে সু-উচ্চ টিলায় শ্রীপঞ্চমী উপলক্ষে। “মঞ্চের উপর হইতে চোখে পড়ে চারিদিকে উচ্চ নীচ পাহাড়গুলি থরে থরে ঢেউ খেলিয়া দূর দিগন্তে মিলাইয়া গিয়াছে- আকাশের নীল চন্দ্রাতপ দিগন্ত সেখানে চুম্বন করিয়া ঋতু উৎসবকে আরও কমনীয় করে তুলিয়াছে। এই প্রাকৃতিক পরিবেষ্টনকে আরও সম্বন্ধিত করিয়াছে দলে দলে নৃত্যগীতরত মণিপুরি শিল্পীবৃন্দ, নানা গান, পরিধানে বাসন্তী রং এর কাপড়, লম্বমান বাসন্তী চাদর গলায়- মাথায় বাসন্তী রং-এর পাগড়ি, খোল, মন্দিরা করতালের সমতালে পদবিক্ষেপ ও দেহভঙ্গিমা দীর্ঘলয়ে কীর্তনের সুর এক মোহময় আবেশ রচনা করিতেছিল। দর্শক যাহারা, তাহারাও স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে বসন্তোৎসবে সেই বাসন্তী রং এ পরিচ্ছদে ভূষিত। এই পরিবেশের মধ্যে কবি ও রাজা মঞ্চোপরি ফরাস বিছানায় আসীন। কালোপযোগী নৃত্যগীত ও পুষ্পসজ্জার উপহার- রাজা প্রজার সমব্যবহার- কবির মনকে এক অভূতপূর্ব আনন্দ ও বিস্ময়ে অভিভূত করিয়াছিল।”

শান্তিনিকেতনে মণিপুরি নৃত্য

সিলেট থেকে মণিপুরি শিক্ষক সংগ্রহ তখনই হল না। বাংলা ১৩২৬ সনে রবীন্দ্রনাথ আগরতলার মহারাজাকে একজন মণিপুরি নৃত্যশিক্ষক পাঠানোর কথা বললে মহারাজা বীরেন্দ্রকিশোর মণিপুরি রাজকুমার বুদ্ধিমন্ত সিংহকে শান্তিনিকেতনে পাঠালেন। শান্তিনিকেতনের ছাত্ররা খোলের বোলের সঙ্গে মণিপুরি নৃত্যশিক্ষা শুরু করে ১৩২৬ সালে। সে সময় ত্রিপুরার রাজ-অন্তঃপুরে এবং অধিবাসীদের মধ্যে বিশেষভাবে মণিপুরি সমাজে নৃত্যগীতের অভ্যাস একটি বিশিষ্ট ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি ছাত্রীদের মধ্যেও মণিপুরি নৃত্য শিক্ষা দিতে উৎসাহী হয়ে ওঠেন। প্রথমদিকে মেয়েরা রাজকুমার বুদ্ধিমন্ত সিংহের নিদের্শমত তাঁর সঙ্গে পদক্ষেপ ও অঙ্গসঞ্চালন করতে স্বীকৃত হচ্ছিল না। রবীন্দ্রনাথ তখন বয়োবৃদ্ধ। তিনিই অগ্রণী হয়ে বুদ্ধিমন্তের নির্দেশ অনুযায়ী অবলীলাক্রমে নৃত্য শুরু করেন- তখন মেয়েদের লজ্জা ভাঙে। এটাই বাংলায় মেয়েদের নৃত্যশিক্ষার প্রথম পদক্ষেপ- অভিনব বলেই আজকাল মেয়েদের কাছে অনুভূত হবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় রাজকুমার বুদ্ধিমন্ত সিংহ, নবকুমার সিংহ, সেনারিক সিংহ, মুহি সিংহ, নীলেশ্বর মুখার্জি, নরেন্দ্র সিংহ, প্রমুখ মণিপুরি নৃত্যশিক্ষকবৃন্দকে বিভিন্ন সময়ে শান্তিনিকেতনে মণিপুরি নৃত্যশিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দান করেন। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের শ্রীনীলেশ্বর মুখার্জি শান্তিনিকেতনে যোগদান করেন ১৯৩৬ সালে। ১৯২৯ সালের জুলাই মাসে মণিপুরের ইম্ফল থেকে দু’জন মণিপুরি নৃত্যশিক্ষক নিয়োগ দেন। কিন্তু নৃত্যশিক্ষকদ্বয় বাংলা ভাষা জানতেন না বলে বাঙালি ছাত্রছাত্রীরা নৃত্যশিক্ষা করতে পারছিল না। তদুপরি রবি ঠাকুরের গীতিনাট্যসমূহে নৃত্যরচনায় সহায়তা করতে পারছিলেন না। তাই অল্পকাল পরেই তাঁরা ফিরে যান।
১৯৩৬ সালে ‘চিত্রাঙ্গদা’ গীতিনাট্যে নীলেশ্বর মুখার্জি অর্জুনের সহচর ও গ্রামবাসীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই সময় শান্তিনিকেতনের নাট্যদল পাটনা, এলাহবাদ, দিল্লি, মিরাট, খুলনা, শিলং, ময়মনসিংহ, আহমেদাবাদ, লক্ষেèৗ ও নাগপুরে বিভিন্ন জায়গায় অভিনয় করেন। কবির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে রবীন্দ্রনাথ কয়েকবারই আগরতলায় অতিথি হিসাবে গিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি মণিপুরি নৃত্য দর্শনে আগ্রহ দেখাতেন। একবার রাজপরিবারের মেয়েরা রবীন্দ্রনাথকে দেখাবার জন্য কিছুদিন যাবৎ প্রাসাদে মণিপুরি নৃত্যশিক্ষক রেখে রাস-নৃত্য তালিম নিয়েছিলেন।
বাংলা ১৩৩২ সনে ঢাকা থেকে ফেরার পরে তিনি মহারাজ ব্রজেন্দ্রকিশোরের বাড়িতে মণিপুরি রাসনৃত্য উপভোগ করেন। রাজপরিবারের মেয়েদের দেহশ্রী, সৌষ্ঠবম-িতা বালিকাদের নৃত্যসজ্জা- বিশেষভাবে পুষ্পাভরণসজ্জা অপূর্ব। দীর্ঘ তাললয়-যোগে মৃদঙ্গ ও মন্দিরার তালে তালে তাদের পদসঞ্চালন লীলায়িত দেহলতিকায় নানা মুদ্রায় অঙ্গুলিবিন্যাস মৃদু মধুর সুললিত কণ্ঠে অপূর্ব সঙ্গীতÑ পুষ্পপত্র শোভিত রাসম-পে এক অপরূপ শোভার সমাবেশ। কবি মুগ্ধনেত্রে যেন বৃন্দাবনের অভিসারিণীদেরই প্রত্যক্ষ করছিলেন। ‘ইহা দেখায় আমার পূর্ববঙ্গে আসা সার্থক হলো’- এই কথাই তখন কবির মুখে এসেছিল।

রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’র নৃত্যসমাবেশ প্রথম হতেই তিনি মণিপুরি নৃত্যের পদ্ধতিতে গড়ে তুলেছিলেন। সম্ভবত এর কারণ এই যে, বিশেষভাবে তখন এই নৃত্যধারার প্রচলন প্রশংসিত হয়েছিল। ১৯৩৬ হতে ১৯৩৮ পর্যন্ত মণিপুরি নৃত্যের প্রাধান্য থাকলেও গৌণভাবে কথাকলি, বাংলা ও অন্যান্য অঞ্চলের লোকনৃত্য এবং সেইসঙ্গে শান্তিনিকেতনের মিশ্ররীতির নৃত্যও ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই রীতির পরিবর্তন করে মণিপুরির প্রাধান্যের বদলে এর সঙ্গে অন্যান্য নৃত্যধারা অর্থাৎ দক্ষিণী নৃত্যধারাও স্থান লাভ করেছিল। মণিপুরি নৃত্যের প্রাধান্যের দৃষ্টান্ত হিসাবে কয়েকটি তালের কথা উল্লেখযোগ্য। প্রায় নৃত্যনাট্যে মণিপুরি, কাওয়ালি, চারতাল ব্যবহৃত। নৃত্যের তাল ও ছন্দের নানা বৈচিত্র্যমূলত মণিপুরি হতেই এসেছিল। যেমন অর্জুনের ধ্যানভঙ্গের দৃশ্য। মূলত এটি ভারতীয় রীতি হলেও তখন মণিপুরি নৃত্যের মধ্য দিয়েই এই কৌশল পাওয়া গিয়েছিল।
এটা ছাড়াও মণিপুরি খোলে তেওড়া ও দাদরা অন্য এক আমেজ আনে যা দক্ষিণ ভারতীয় তালযন্ত্রের মধ্যে পাওয়া যায় না। মণিপুরি নৃত্যের সঙ্গে খোলের বোল বা ছন্দ এমন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত যে, ঐ তাল যদি অন্য কোন তালযন্ত্রে বাজানো হয় তা হলে যেন সুর থাকে না। আর মণিপুরি নৃত্যের যা কিছু বৈশিষ্ট্য, সৌন্দর্য বা ভাবভঙ্গি তা এই ছন্দের মধ্যেই নিহিত। বোধহয় এই বৈশিষ্ট্যই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে খুব বেশি মুগ্ধ বা অনুপ্রাণিত করেছিল।

রবীন্দ্রনাথ মণিপুরি নৃত্যকে যেভাবে মার্জিত রূপ দিয়ে মহৎ করে দিয়েছেন সেভাবে মণিপুরি সঙ্গীত নিয়ে কাজ করেননি। তবু কিছু ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের ‘ভানুসিংহের পদাবলি’ নৃত্যনাট্যে মণিপুরি সঙ্গীতের সুর সংযোজিত হয়েছে। রাসলীলার অনেক গানের সুরও রবীন্দ্রনাথ রচনা করে দিয়েছেন। যেমন-

কাছে থেকে দূর রচিল কেন গো আঁধারে
মিলনের মাঝে বিরহ কারায় বাঁধা রে
সমুখে রয়েছে সুধা পারাবার
নাগাল না পায় তবু আঁখি তার
কেমনে সরাব কুহেলিকার এই বাধা রে।

ক্রমে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাথে নৃত্য রচনায় অন্যান্য নৃত্যের চাইতে মণিপুরি নৃত্যধারা ভালভাবে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্যে মণিপুরি নৃত্যধারা সংযোজন চমকপ্রদ রূপলাভ করেছে। যেমন-

‘সখী বহে গেল বেলা, শুধু হাসিখেলা এ কি আর ভাল লাগে।
আকুল তিয়াষ, প্রেমের পিয়াস, প্রাণে কেন নাহি জাগে ॥
কবে আর হবে থাকিতে জীবন-
আঁখিতে আঁখিতে মদির মিলন
মধুর হুতাশে মধুর দহন নিতি নব অনুরাগে।’

অথবা,

‘সেদিন দু’জনে দুলেছিনু বনে, ফুলডোরে বাঁধা ঝুলনা
সেই স্মৃতিটুকু কভু খণে খণে যেন জাগে মনে,
ভুলো না, ভুলো না, ভুলো না।
সেদিন বাতাসে ছিল তুমি জানো, আমারি মনে প্রলাপ জড়ানো
আকাশে আকাশে আছিল ছড়ানো তোমার হাসির তুলনা।’

মণিপুরি নৃত্যশিক্ষকদের সহায়তায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর যে সমস্ত সঙ্গীত মণিপুরি নৃত্যধারার মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন তার মধ্যে-
১. ওরে ঝড় নেমে আয়
২. বঁধু কোন আলো লাগলো চোখে
৩. রোদনভরা এ বসন্ত কখনো আসেনি বুঝি আগে
৪. আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে
এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়
সখীর হৃদয় কুসুম কোমল-
কাহার অনাদরে আজি মরে যায়- ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

রবীন্দ্র সঙ্গীত ও তাঁর নৃত্যনাট্য বিশ্বের সর্বত্র প্রচার লাভ করেছে। কিন্তু তাঁর নৃত্যনাট্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসিত হল মণিপুরি নৃত্য প্রয়োগে শাপমোচন, শ্যামা, চিত্রাঙ্গদা প্রভৃতি। এ কথা অনস্বীকার্য যে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিপুরি নৃত্যকে শান্তিনিকেতনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বসভায় মণিপুরি নৃত্যে পূর্ণরূপ লাভের বীজ তিনি বপন করে গিয়েছেন। রবিরশ্মি যেমন ছোট বড় কাকেও ভেদাভেদ না রেখে সবাইকে সমানভাবে আলোকিত করে তেমনি রবীন্দ্রপ্রতিভার আলো ফাঁক পেলেই যেন সেই ফাঁক দিয়ে বের হয়ে সকলের সাথে মিশেছে।

 

লেখক পরিচিতি :

 অধ্যাপক ড. রণজিত সিং একজন নৃতাত্ত্বিক গবেষক ও প্রাবন্ধিক। বাংলা এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী উভয় ভাষাতেই তিনি পারদর্শী। মণিপুরী ভাষা ও গবেষণা নিয়ে তার অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে। ভারতে স্কুল পর্যায়ের বেয়ে তার কবিতা পড়ানো হয়। 

Sharing is caring!

Besogo Editor

বাংলাভাষী পাঠকের ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনকে আরো বেশি উপভোগ্য, ছন্দময় ও জ্ঞাত করার প্রয়াসে বিসর্গ নামক এই বাংলা পোর্টালের সৃষ্টি। কৃতজ্ঞতার সাথে বিসর্গ টিম সকল লেখক ও কন্ট্রিবিউটরের অবদান স্মরণ করে। বিশেষ করে উপরের সংগৃহিত পোস্টটির জন্য লেখক সহ সকলের কাছে বিসর্গ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

1 thought on “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, শান্তিনিকেতন এবং মণিপুরি নৃত্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *